
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর মামলা দায়ের হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাতে এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ হোসেন কাফি (২৬), রসায়ন বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা (২৫), ভেটেরিনারি অনুষদের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম শামস (২৮) এবং অর্থনীতি বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকির মাহমুদ (২৩)।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নূর হোসেন হল এবং শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় দুই হলের শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষ চলাকালে শহীদ নূর হোসেন হলের অভ্যন্তরে ভাঙচুর চালানো হয়, যাতে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হামলার সময় সহকারী প্রক্টর মবিনুল ইসলামসহ অন্তত তিনজন আহত হন। তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১০০ থেকে ১২০ জন অজ্ঞাত শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার ভিত্তিতে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানায়, মামলার পর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংঘর্ষ না ঘটে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।