
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুর প্রাণহানি ঘটেছে। আনন্দঘন সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে তিন বন্ধু একসঙ্গে মোটরসাইকেলে বের হলেও তাদের যাত্রা শেষ হয় মর্মান্তিক ঘটনায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া আনসার ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী হানিফ পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মুহূর্তেই মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে রক্তাক্ত পরিস্থিতি।
নিহত দুই কিশোর হলেন পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার জাহেদুল আলমের ছেলে ওয়ালিদ আল তাসনিম (১৭) এবং একই এলাকার আকতার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন সামি (১৬)। গুরুতর আহত হয়েছেন আবদুল আলমের ছেলে তানভিরুল ইসলাম জয় (১৮)। তাকে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের মানুষ দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা দেখতে পান, সড়কের পাশে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে মোটরসাইকেলটি এবং তিন বন্ধু রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেকে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ কেউ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করেন। দৃশ্যটি এতটাই হৃদয়বিদারক ছিল যে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
নিহত ওয়ালিদের এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সকালে তারা হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কেউ ভাবতেই পারেনি সেটিই তাদের শেষ যাত্রা হবে। একটি ফোনকলেই পুরো পরিবার শোকের সাগরে ডুবে যায়।
অন্যদিকে নিহত সামির প্রতিবেশীরা জানান, সামি ছিল অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত ও মেধাবী একজন কিশোর। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই পরিবারের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচলের বেপরোয়া গতি নিয়ে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করছে। এতে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানান।
হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. হারুনুর রশিদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সব মিলিয়ে, একটি আনন্দঘন ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের ঘটনায়। দুই বন্ধুর মৃত্যু এবং আরেক বন্ধুর জীবন-মৃত্যুর লড়াই পুরো এলাকাকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।