
পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলে একটি ভয়াবহ ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৪৮ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। হামলাটি ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করছে।
রাশিয়া-নিযুক্ত প্রশাসনের প্রধান লিওনিড পাসেচনিক জানিয়েছেন, শুক্রবার স্টারোবিলস্ক শহরের একটি ছাত্রাবাসে এই হামলা চালানো হয়। তার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ড্রোন ব্যবহার করে ওই ভবনকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। তিনি ঘটনাটিকে “সরাসরি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
হামলার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি কার্যক্রম এখনো চলমান।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিত ছিল। ঘটনার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনাবাহিনীকে সম্ভাব্য পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। এই নির্দেশের ফলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা স্টারোবিলস্ক এলাকায় একটি বিশেষ ড্রোন কমান্ড ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, কোনো ছাত্রাবাস বা বেসামরিক ভবনকে নয়।
ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে পরিচালিত হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা, বেসামরিক জনগণ নয়। ফলে হামলার প্রকৃত লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ পূর্ব ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম সংঘর্ষপূর্ণ এলাকা। সেখানে অবকাঠামো, আবাসিক ভবন এবং বেসামরিক জনগণ বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ করে ছাত্রাবাসের মতো স্থানে হতাহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
এদিকে লুহানস্ক প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে স্টারোবিলস্কের এই ড্রোন হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের নতুন একটি উত্তপ্ত অধ্যায় তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।