
পটুয়াখালীর কলাপাড়া এলাকায় গোপনে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যা জ্বালানি খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে সরকারের অবস্থানকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কলাপাড়া পৌরশহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। জানা যায়, একটি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গোপনে ডিজেল বিক্রি করছে—এমন তথ্য পাওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানের সময় একটি ইজিবাইকে ব্যারেল ভর্তি করে তেল বহন করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থলেই সেটি আটক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ নিজেই উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন। ইজিবাইক চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা দাবি করে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের তেল বিক্রি করা হয়নি। তবে গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্য এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে পরে দুই ব্যারেল ডিজেল বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যারেল ডিজেল জব্দ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রেদওয়ানুল ইসলাম-কে দায়ী করে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে তেল বিক্রি করার অপরাধে এই জরিমানা করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটি গোপনে তেল বিক্রি করছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রশাসনকে জানানো হয় এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে ঘটনাস্থলেই অপরাধের প্রমাণ পাওয়া সম্ভব হয়।
ইউএনও কাউসার হামিদ জানান, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে জ্বালানি তেল বিক্রি করা একটি গুরুতর অপরাধ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এমন অনিয়ম না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শেষবারের মতো সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, পরবর্তীতে এ ধরনের কার্যক্রম ধরা পড়লে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে অনিয়ম বা কালোবাজারি হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া, এ ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিয়ম বহির্ভূত কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এই বার্তাই আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কলাপাড়ায় পরিচালিত এই অভিযান শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।