
উত্তরা ইউনিভার্সিটি-এর বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘কালের বিচারে রবীন্দ্রনাথ : সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই সেমিনারে অংশ নেন দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।
সেমিনারের মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Sirajul Islam Chowdhury, যিনি University of Dhaka-এর ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সময়ে রবীন্দ্র-চর্চার গুরুত্ব, সমসাময়িক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে Rabindranath Tagore-এর বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাঙালির অন্তরের মানুষ—প্রথমে একজন বাঙালি, পরে ভারতীয় এবং সর্বশেষে বিশ্বমানব। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে রবীন্দ্রনাথের অবদান অপরিসীম এবং তাকে বাদ দিয়ে এই ধারাকে কল্পনা করা অসম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য Yasmin Ara Lekha। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন; বরং তিনি চিরন্তন এবং প্রতিটি যুগে প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে হলে প্রয়োজন মুক্তচিন্তা, গভীর মনন এবং প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ভাবার সাহস।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল বাস্তবতায় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য নতুন করে তাৎপর্য বহন করছে। তাঁর সৃষ্টির গভীরতা উপলব্ধি করতে হলে মনকে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে আরও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহানা মাহবুব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস, উত্তরা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মমতাজ বেগম, উপদেষ্টা ড. ফায়েজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক এবং কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সৈয়দা আফরোজা জেরিন।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় রবীন্দ্র-দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বর্তমান সমাজে এর প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে, আধুনিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট নিরসনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও চিন্তাধারা কীভাবে পথপ্রদর্শক হতে পারে, তা নিয়ে তারা গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ড. সোহানা মাহবুব ও অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস তাঁদের বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য, ভাষার ব্যবহার এবং মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তাদের উপস্থাপনা উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
এই সেমিনারটি শুধুমাত্র একটি একাডেমিক আলোচনা নয়, বরং এটি ছিল চিন্তার একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে রবীন্দ্রনাথকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও মননশীল ও গবেষণামুখী করে তুলবে।
সবশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আহ্বায়ক ড. শাহ্ আহমেদ সকল অতিথি, বক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সেমিনারের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।