
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে টানা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ‘গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ, পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, শোডাউন এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ইস্যুতে দুই সংগঠনের অভিভাবক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিরোধ দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়েছে, পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে।
রাজধানীর শাহবাগেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে বিক্ষোভ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতা নিরাপত্তার জন্য থানার ভেতরে আশ্রয় নেন বলে জানা যায়।
গত কয়েকদিনে রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের উত্তেজনা দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে দেয়াললিখন ঘিরেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
উভয় সংগঠনের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রতিপক্ষ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে। আবার অন্য পক্ষ বলছে, তারা আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিরোধ মূলত ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এবং তা দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।