
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক হামলার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পরে কিছুটা কমলেও দিনের শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ১০৫ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৯৬ ডলারে অবস্থান করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়া, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা— এসব কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের পদত্যাগের খবর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হতো, ফলে এর যেকোনো বিঘ্ন বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রেখেছে এবং ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে এবং কিছু ট্যাংকারকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ফলে তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে এবং সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।