
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বিগ আইল্যান্ডে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার গভীর রাতে হওয়া এই ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬.০ বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)।
ভূমিকম্পটি হোনাউনাউ-নাপুপু এলাকায় কেন্দ্র করে অনুভূত হয় এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ২৩ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের প্রভাবে হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ড ছাড়াও মাউই এবং ওআহু দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
USGS জানায়, ভূমিকম্পের সময় হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কিলাউয়া আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কিলাউয়া আগ্নেয়গিরি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে এবং ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে এটি মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। ফলে ভূমিকম্পের পরপরই আগ্নেয়গিরি অঞ্চলে নতুন করে সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
USGS-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ২৭ মে’র মধ্যে আবারও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা থাকতে পারে। এই পূর্বাভাস মডেলের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র (Pacific Tsunami Warning Center) জানায়, এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো সুনামির ঝুঁকি তৈরি হয়নি। ফলে উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের জরুরি সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হয়নি।
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত। বিশেষ করে বিগ আইল্যান্ডে থাকা কিলাউয়া আগ্নেয়গিরি বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম দেখা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর জরুরি সেবা সংস্থাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো পরবর্তী কম্পন বা আগ্নেয়গিরি কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভূমিকম্প কিলাউয়া আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরীণ চাপের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত করতে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও বিজ্ঞানীরা সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং পরবর্তী কয়েকদিনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন।