
ইরানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও জনসমাবেশে অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদর্শনের একাধিক দৃশ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিয়মিতভাবে রাষ্ট্র-পরিচালিত সমাবেশ এবং সামরিক ধাঁচের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত প্রায় তিন মাস ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে প্রতি রাতে রাষ্ট্র-পরিচালিত সমাবেশ বা ‘নাইট গ্যাদারিং’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচি মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য সংঘাতকে কেন্দ্র করে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
রাজধানী তেহরানের ভানাক স্কয়ার এলাকায় সম্প্রতি অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণের চিত্র দেখা যায়। সেখানে এক নারী কালো চাদর পরে একে-৪৭ রাইফেল চালানোর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। মুখোশধারী প্রশিক্ষক তাকে অস্ত্র খোলা ও পুনরায় জোড়া লাগানোর কৌশল শেখাচ্ছেন। একই এলাকায় একটি ছোট শিশুকে কালাশনিকভ রাইফেল হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও অস্ত্র ব্যবহারের উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানা যায়। কিছু টেলিভিশন উপস্থাপক সম্প্রচারের সময় অস্ত্র হাতে উপস্থিত হচ্ছেন, যা সাধারণত বিরল একটি দৃশ্য। রাষ্ট্রীয় চ্যানেলের কিছু অনুষ্ঠানে সরাসরি লাইভ সম্প্রচারে অস্ত্র ব্যবহারের প্রদর্শনও দেখা গেছে।
একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থাপক লাইভ সম্প্রচারের সময় রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের একজন সদস্যের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্টুডিওর ভেতরে অস্ত্র ব্যবহার করেন বলে জানা যায়। অন্য একটি চ্যানেলে এক উপস্থাপিকা রাইফেল হাতে দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং জানান, তাকে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অভ্যন্তরীণ জনমনে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দেওয়ার একটি অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে তেহরানে বড় আকারের রাষ্ট্র-সমর্থিত সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। এই সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা উচ্চারিত হয়। শহরের আলবোর্জ পর্বতমালার আশপাশ ও তাজরিশ স্কয়ার এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।
সমাবেশ চলাকালে “আমেরিকার ধ্বংস হোক” ধরনের স্লোগানও শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে রাস্তার পাশে বিক্রেতারা উপস্থিত জনতার কাছে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক সামগ্রী বিক্রি করেন।
এই ধরনের কর্মসূচি ও মিডিয়া প্রদর্শন ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সম্ভাব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকে।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অস্ত্র প্রদর্শন এবং জনসমাবেশে সামরিক ধাঁচের কার্যক্রম ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।