
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। হামলার ফলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
দনিপ্রো অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলার পর উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, নিহতের সংখ্যা দুইজন এবং আহত হয়েছেন আটজন। এছাড়া আরও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে দেওয়া আরেকটি বার্তায় তিনি জানান, আহতদের মধ্যে ৯ বছর ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু রয়েছে, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থার উপর নজর রাখছেন বলে জানা গেছে।
হামলার ফলে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, একটি দোকান এবং একটি গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে।
গত কয়েক বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব হামলা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল আকার ধারণ করছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এই যুদ্ধ ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত শুধু ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি ও সংকট দেখা দিয়েছে।
দনিপ্রোতে সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও দেখিয়ে দিল যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহভাবে চলমান রয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।
আন্তর্জাতিক মহল বারবার যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা।