
ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (DNCC) আওতায় আনার বিষয়ে একটি আলোচনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই প্রশাসনিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের ফলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এদিকে বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছে, বর্তমানে তারা যে ধরনের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিকল্পিত নগর সুবিধা পাচ্ছেন, সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে সেই মান বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাইহান উদ্দিন শুভ নামে একজন ব্যবহারকারীর একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। তিনি লেখেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা যদি সিটি করপোরেশনের আওতায় চলে যায়, তাহলে এটি তাদের কাছে ‘আতঙ্কের’ মতো মনে হবে। তার দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এলাকার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, এলাকাটি সিটি করপোরেশনের অধীনে গেলে নানা ধরনের নগর সমস্যা যেমন তারের জটলা, রাস্তাঘাটের খনন কাজ, যানজট ও শব্দ দূষণ বেড়ে যেতে পারে বলে তার আশঙ্কা রয়েছে। তার পোস্টে ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়, যা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পোস্টটিতে তিনি দাবি করেন, বসুন্ধরা এলাকায় বর্তমানে যে ধরনের নিরাপদ ও পরিকল্পিত পরিবেশ রয়েছে, তা পরিবর্তন হলে বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে কিছু নাগরিক সুবিধাও বাড়তে পারে।
স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, কিছু বাসিন্দা মনে করছেন সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তি হলে সরকারি সেবা কাঠামোর সুবিধা পাওয়া যাবে, যেমন কর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি অংশগ্রহণ। তবে অন্য একটি অংশ আশঙ্কা করছে, এতে প্রশাসনিক জটিলতা ও নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে বর্তমান সুবিধা কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাকে নগর কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা হলে তার পরিচালনায় পরিবর্তন আসে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি নগর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি মূলত আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সব মিলিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সম্ভাব্য প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। বাসিন্দাদের একাংশ সম্ভাব্য পরিবর্তনকে উদ্বেগের চোখে দেখলেও অন্যরা এটিকে নগর ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছেন।