
দেশে ক্রীড়া উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি সফল করতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। নোটিশটিতে স্বাক্ষর করেন মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম।
নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২ মে বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে কার্যক্রম শুরু হবে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, নির্ধারিত বয়সসীমার শিক্ষার্থীদের অনলাইন অথবা সরাসরি নিবন্ধনে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এ বিষয়ে অবহিত করতে হবে। এতে সবাই কর্মসূচি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবে এবং অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে জানবে।
তৃতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদর্শন করতে হবে, যাতে সহজেই শিক্ষার্থীরা তথ্য জানতে পারে।
এছাড়া, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে অনুমোদিত ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসূচির প্রচার বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে নিয়মিত প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু ক্রীড়া চর্চাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, দলগত কাজের দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তারা সুস্থ ও সৃজনশীলভাবে বেড়ে উঠতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচি দেশের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতেও সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে সফল করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।