
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এলাকায় একটি ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত একজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় সময় শুক্রবার রিচমন্ড টেরেস এলাকায় ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ড্রাই ডক এলাকায় আগুন লাগার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আগুন নেভানো এবং ভেতরে আটকে পড়া দুইজনকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ করে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যা পুরো এলাকাকে কেঁপে তোলে।
বিস্ফোরণের ফলে দমকল বাহিনীর সদস্যসহ বহু মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুইজন দমকলকর্মী রয়েছেন। তাদের একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে। অন্যজনও গুরুতর আহত হলেও বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পরপরই এলাকায় জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাহ্য পদার্থ বা শিল্পজাত রাসায়নিকের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে, তবে এখনো তা নিশ্চিত নয়।
নিউইয়র্কের মেয়র Zohran Mamdani বলেন, জরুরি বিভাগের কর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন এবং বহু প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিচমন্ড টেরেস এলাকার এই ড্রাই ডকটি জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে দাহ্য পদার্থ এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধরনের ড্রাই ডক এলাকায় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও ঠিক এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিস্ফোরণের শব্দকে ভূমিকম্পের মতো অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পেছনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, বা প্রযুক্তিগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ জানা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ আবারও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন করে সতর্ক করেছে।