
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীতে ধরা একটি বিশাল আকারের পাঙাশ মাছ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৫২ হাজার টাকায়। ২৫ কেজি ওজনের এই মাছটি স্থানীয় বাজারে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চরকর্নেসোনা গ্রামের জেলে কার্তিক হালদার পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় তার জালে বড় আকারের এই পাঙাশটি ধরা পড়ে।
পরে মাছটি বিক্রির জন্য নেওয়া হয় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার মোহন মণ্ডলের আড়তে। সেখানে মাছটির ওজন মাপা হলে দেখা যায় এটি ২৫ কেজি।
এরপর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছটি কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকা দরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান শেখ ক্রয় করেন। তিনি পরে মাছটি গাজীপুর এলাকার এক প্রবাসীর কাছে ৫২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন।
ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ জানান, তিনি নিয়মিত পদ্মা নদী থেকে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের মাছ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। তবে এমন বড় আকারের পাঙাশ খুব কমই পাওয়া যায়, যা একদিকে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়।
স্থানীয় জেলেরা জানান, পদ্মা নদীতে মাঝে মাঝে বড় আকারের পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে, তবে ২৫ কেজির মাছ তুলনামূলকভাবে বিরল। এমন মাছ ধরা পড়লে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়, যেখানে অনেক ক্রেতার আগ্রহ থাকে।
গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার আড়তগুলোতে প্রতিদিনই পদ্মার মাছের বড় বাজার বসে। বিশেষ করে বড় আকারের ইলিশ, রুই, কাতলা ও পাঙাশের জন্য এই ঘাট এলাকায় আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পদ্মা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বড় মিঠা পানির উৎস হওয়ায় এখানে বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ পাওয়া যায়। বর্ষা মৌসুমে এই ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অনেক ক্রেতা ও দর্শনার্থী বড় আকারের মাছটি দেখতে আড়তে ভিড় করেন।
মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় আকারের মাছ সাধারণত প্রবাসী ক্রেতা বা উচ্চমূল্যের রেস্তোরাঁগুলোর কাছে বেশি চাহিদা থাকে। তাই নিলামের মাধ্যমে এসব মাছ দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে, পদ্মা নদীতে ধরা ২৫ কেজির এই পাঙাশ স্থানীয় বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে এবং এটি নদীর মাছের প্রাচুর্য আবারও সামনে এনেছে।