
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত যমুনা সেতু এলাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ যানবাহন চলাচল করেছে, ফলে টোল আদায়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা, যা একদিনে তুলনামূলকভাবে বেশ বড় অঙ্কের আয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ঈদযাত্রার কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজট বা দীর্ঘ সময়ের ধীরগতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
টোল আদায়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা, যা মূলত উত্তরবঙ্গগামী লেন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেখানে ১৮ হাজার ৮৫৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই অংশ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ২১ হাজার ৪৫০ টাকা।
অন্যদিকে পশ্চিম টোল প্লাজা দিয়ে ১৬ হাজার ১০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যার বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৯৫০ টাকা। দুই দিক মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে ১৪টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় কার্যক্রম চলছিল। তবে ঈদযাত্রার চাপ বিবেচনায় শনিবার থেকে আরও ৪টি নতুন বুথ চালু করা হয়েছে, ফলে মোট বুথ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, অতিরিক্ত বুথ চালুর ফলে টোল আদায় আরও দ্রুত হবে এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
এদিকে, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে রয়েছে। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু জানিয়েছেন, মহাসড়কে প্রায় ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। তারা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন যাতে যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন হয়।
তিনি আরও জানান, এবারের ঈদযাত্রা যাতে সম্পূর্ণ স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হয় সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা যানজট তৈরি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ মৌসুমে যমুনা সেতু দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ট্রাফিক পয়েন্টে পরিণত হয়। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বড় একটি অংশ এই রুট ব্যবহার করে থাকেন। ফলে এই সময়ে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে, ঈদযাত্রার শুরুতেই যমুনা সেতু এলাকায় যে চাপ দেখা যাচ্ছে, তা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।