
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মনিরা শারমিন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। এর পরপরই তিনি বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং তার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ চান। তার দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাকে যথাযথভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব। কারণ আমার কাছ থেকে কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আজ মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাইনি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে আইনি কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মনে করেন।
তার আইনজীবী নাজমুস সাকিব জানান, প্রার্থিতা ফিরে পেতে আগামী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিলের মাধ্যমে মনিরা শারমিন তার প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবেন।
এর আগে জামায়াত জোটের মনোনীত ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নের বিষয়ে তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য ও নথির যথার্থতা নিশ্চিত করা হয়। কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা ঘাটতি থাকলে তা বাতিল বা স্থগিত করার বিধান রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মনিরা শারমিনের মনোনয়ন প্রথমে স্থগিত এবং পরে বাতিল করা হয়েছে।
তবে এখন আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি আবারও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল দাখিল করা হলে তা নির্ধারিত তারিখে শুনানি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতামত উঠে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপিল প্রক্রিয়া নির্বাচন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে। তাই মনিরা শারমিনের আপিলের ফলাফল এখন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন বাতিলের পর আপিলের সিদ্ধান্ত নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা আপিল ও তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে।