
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় ডাকাতির সময় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে দুলাল (২৬) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে প্রায় আট সদস্যের একটি ডাকাত দল নাজমুল হাসান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির দ্বিতীয় তলার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে।
এ সময় ডাকাত দলের সদস্য দুলাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে গৃহকর্তা নাজমুল হাসানকে আঘাত করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে নাজমুল ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন।
ঘটনার সময় নাজমুলের স্ত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। তবে তাদের একজনকে স্থানীয়রা ধরে ফেলতে সক্ষম হন।
পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে Nazirpur Upazila Health Complex-এ নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দুলালের বাড়ি Hijla Upazila এলাকায় বলে জানা গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
এদিকে গুরুতর আহত নাজমুল হাসান ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য Dhaka Medical College Hospital-এ পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, “ডাকাতির সময় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধ দমনে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়। যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, পিরোজপুরের এই ঘটনা আবারও গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ বলছে, দ্রুতই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।