
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন এক সংঘাতে জড়িয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) একটি ফান্ড রাইজিং ইভেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে কমালা হ্যারিস এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়েছেন, তাকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চায় না। এটি আমেরিকার সেনাদের ঝুঁকিতে ফেলেছে।”
তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কমালা হ্যারিসের মন্তব্যের পর এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ ইসরায়েলকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেশটির প্রশংসা করা হয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক বা না করুক, তারা জানে কীভাবে বিজয় অর্জন করতে হয়। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মিত্র এবং তারা সাহসী, নির্ভীক, বিশ্বস্ত ও বিচক্ষণ। তার মতে, যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতেও ইসরায়েল শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এবং বিজয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বর্তমানে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ভূমিকা রাখলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে মতভেদ বাড়ছে।
কমালা হ্যারিসের বক্তব্যকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মন্তব্য আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ পেলেও, এটি সমালোচকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি সংঘাতমুখী অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন শুধু দেশটির নীতিকেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সব মিলিয়ে, কমালা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।