
বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে আবারও ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে পদ্মা অয়েল পিএলসি-এর পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে পাইপলাইনে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর শনিবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পুরো চালান পার্বতীপুর ডিপোতে এসে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে কাজী মো. রবিউল আলম জানান, এটি একটি নিয়মিত ও চলমান আমদানি কার্যক্রমের অংশ। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আনা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ডিপোতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বিতরণ কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি এপ্রিল মাসে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে এর আগে ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসে। সর্বশেষ চালানসহ এ মাসে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু পরিবহন ব্যয় কমাচ্ছে না, বরং সরবরাহ ব্যবস্থাকেও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সহায়তা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশও সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে নিয়মিতভাবে জ্বালানি আমদানি করছে।
পার্বতীপুর ডিপোতে নতুন চালান পৌঁছানোর ফলে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ আরও স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি কমবে।
সব মিলিয়ে, মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিক জ্বালানি আমদানি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।