
হঠাৎ বয়ে যাওয়া শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে বসতঘর, দোকানপাট ও গাছপালায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড বেগের ঝড়। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের তীব্রতায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পত্তন ইউনিয়নের মনিপুর বাজার এলাকায় চারটি দোকান সম্পূর্ণভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
এ ছাড়া বড় পুকুর পাড় ও লক্ষ্মীমোড়া এলাকায় দুটি বসতঘর ঝড়ের আঘাতে ধসে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ঝড় এতটাই আকস্মিক ছিল যে অনেকেই ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঝড়ের পর পুরো এলাকায় ভাঙা গাছপালা, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা টিন ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা পরিষ্কার ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ শুরু করেন।
পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নূর ইসলাম জানান, ঝড়টি খুব অল্প সময়ের মধ্যে হলেও ব্যাপক ক্ষতি করে গেছে। দোকানপাট ও ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে উড়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিনা আক্তার জানান, ঝড়ের খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর কালবৈশাখী মৌসুমে এ ধরনের আকস্মিক ঝড়ের কারণে কৃষি, ঘরবাড়ি ও ছোট ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই তারা আগাম সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকে। এই সময় হঠাৎ করে শক্তিশালী বজ্রসহ ঝড় সৃষ্টি হয়ে স্বল্প সময়ে ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
সব মিলিয়ে বিজয়নগরের এই ঝড় আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে প্রস্তুতি ও সচেতনতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতনতাই ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।