
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে মোট ৩৭০০ জন কৃষকের মাঝে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে আউশ ধানের উন্নত জাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়, যাতে তারা উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান। তিনি বলেন, সরকারের এই প্রণোদনা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু এবং উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি হাজি আব্দুল কাইয়ুম।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. মোস্তাকিম হোসেন বাবুল, পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এবং জায়ফরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুবেল আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান জানান, প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি উফশী আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। প্রতিজন কৃষকের জন্য সরকারের নির্ধারিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬৭ টাকা ৫০ পয়সা।
তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়তা করবে এবং আউশ ধানের আবাদে আগ্রহ বাড়াবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তাদের অনেকটাই আর্থিক চাপ কমেছে। তারা আশা করছেন, এই মৌসুমে ভালো ফলন হলে তাদের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
সরকারি এই কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে দেশের কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।