
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি ধানক্ষেত থেকে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মিন্টু মিয়া। তিনি নোয়াখালীর চরমটুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আকরতমা গ্রামের পানিয়ালা বাজার সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ধানক্ষেতে মরদেহটি পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে এক কৃষক ধানক্ষেতে কাজ দেখতে গিয়ে মাঠের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মিন্টু মিয়ার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়।
স্থানীয়রা জানান, মিন্টু মিয়া রামগঞ্জের Fahad Bricks Manufacturing ইটভাটায় কাজ করতেন। তবে তিনি অধিকাংশ সময় রান্নার কাজ করতেন বলেও জানা গেছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে বা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাটি হত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, মিন্টু মিয়া কর্মসূত্রে এলাকায় থাকতেন এবং তার কোনো শত্রুতা ছিল কি না তা তারা জানেন না।
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় এমন রহস্যজনক মৃত্যু এর আগে খুব কম ঘটেছে, তাই ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।