
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো পক্ষকে এই আন্তর্জাতিক নৌপথকে অবৈধভাবে অস্ত্রসজ্জিত করার সুযোগ দেওয়া হলে তা বিশ্বজুড়ে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Straits Times-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আয়োজিত হরমুজ প্রণালি বিষয়ক একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী ওং বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথে যদি অস্ত্রায়ন বা সামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা তৈরি হয়, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি বিশেষভাবে মালাক্কা প্রণালির মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুটের কথা উল্লেখ করেন, যা এশিয়ার বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতি বিশ্বকে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বলপ্রয়োগ ও জবরদস্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
লরেন্স ওং আরও বলেন, নৌচলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক অংশ, যা লঙ্ঘন করা হলে তা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ UNCLOS-এর কথা উল্লেখ করেন। এই চুক্তিতে সমুদ্রপথে ট্রানজিট চলাচলের অধিকার স্পষ্টভাবে স্বীকৃত রয়েছে।
তার মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোকে সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং সহজগম্য রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব। বিশেষ করে জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত রুটগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চোকপয়েন্ট, যেখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। তাই এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নৌপথের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।