
পার্বত্য জেলা রাঙামাটি-তে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে একটি নবজাতক কন্যা শিশুকে শ্মশানের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার উপজেলার রাজস্থলী-র বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ছাগল খাইয়া এলাকার একটি হিন্দুপাড়া শ্মশানের পাশে রক্তমাখা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় শিশুটিকে। ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে সেখানে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যা রানী নাথ শ্মশানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথম শিশুটিকে দেখতে পান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে তিনি দ্রুত এগিয়ে যান এবং মানবিকতার পরিচয় দিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন। পরে শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে প্রাথমিক সেবার ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শিমুল দে। তিনি জানান, বর্তমানে শিশুটি স্থানীয় বাসিন্দা প্রমোদ দে ও সন্ধ্যা রানীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তারা শিশুটির যত্ন নিচ্ছেন এবং সুস্থ রাখার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি নবজাতক শিশুকে এভাবে শ্মশানের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে—এটি মেনে নেওয়া কঠিন। সৌভাগ্যক্রমে সময়মতো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, না হলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারত।”
এ বিষয়ে চন্দ্রঘোনা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকের আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত শিশুটির মা-বাবার কোনো পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, “শিশুটি বর্তমানে যারা উদ্ধার করেছেন, তাদের কাছেই রয়েছে। আমরা তার পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” পাশাপাশি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ধরনের ঘটনা সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। কেন একটি নবজাতক শিশুকে এভাবে ফেলে রাখা হলো, তার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে—এসব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। দারিদ্র্য, সামাজিক চাপ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অনেক সময় এমন নির্মম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং বিপদে থাকা নারীদের জন্য সহায়তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি শুধু একটি শিশুর জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং সমাজের মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলনও তুলে ধরে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শিশুটির পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, এবং তার ভবিষ্যৎ কীভাবে নিরাপদ করা হবে।