
ফরিদপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় প্রদীপ পাল (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা এলাকা থেকে গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) র্যাব-১০ এর লালবাগ ক্যাম্পের একটি দল র্যাব-১১ এর সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় আসামির কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত প্রদীপ পাল ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার জালালচর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক নারীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করেন। সেই আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল, মানহানিকর এবং ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৫, ২৬ ও ২৭ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৮৫ ধারায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) ফরিদপুর ইউনিট তদন্ত করছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম এলাকার শংকর কুমার পালের (৩৩) নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কোরআন অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে তদন্তে ভুয়া আইডির পেছনে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে র্যাব প্রযুক্তিগত নজরদারি শুরু করে। তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এরপরই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকা থেকে প্রদীপ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপহরণ, ছিনতাই, হত্যা ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে র্যাবের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ডিজিটাল অপরাধ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।