
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে পানির ট্যাংক পরিষ্কারের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কাশীপুরের ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকায় অবস্থিত শাহাবুদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে।
নিহত দুই শ্রমিক হলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাংরা গ্রামের আলতাফ মৃধার ছেলে দেলোয়ার মৃধা (৩৫) এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে রানা (২২)। দেলোয়ার মৃধা পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং নির্মাণ কাজে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন। অপরদিকে রানা একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অতিরিক্ত আয় করার উদ্দেশ্যে দেলোয়ার মৃধার সঙ্গে নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছিলেন। এই কাজেই তার জীবনাবসান ঘটে। মাত্র চার মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে। অন্যদিকে দেলোয়ার মৃধার দেড় বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে, যা পুরো পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনের পানির ট্যাংকের স্যান্টারিং খোলার কাজ চলছিল। এ সময় ট্যাংকের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা গ্যাসের উপস্থিতি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসার পর শ্রমিকরা দ্রুত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে যান। ট্যাংকের মতো বন্ধ ও অল্প বাতাস চলাচল করা স্থানে এমন দুর্ঘটনা সাধারণত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ না থাকলে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চিকিৎসার সুযোগও পাননি তারা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ। এ ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ব্যবস্থা না থাকা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করার কারণে ঘটে থাকে। নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিকদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।