
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফতপন্থী দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আসন সমঝোতা প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তে এসে জটিলতায় পড়েছে। দফায় দফায় বৈঠক হলেও একক প্রার্থী নির্ধারণে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট লিয়াজোঁ কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসন চাহিদা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আসন না পেলে এই দুটি দল সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আলাদা প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে যাওয়ার কথাও ভাবছে বলে জানা গেছে।
আসন সমঝোতা নিয়ে আট দলের এই টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে অন্তত অর্ধশত আসনের প্রত্যাশা করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এনসিপি যুক্ত হলে বিদ্যমান শরিকদের আরও ছাড় দিতে হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্রমতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শতাধিক আসন দাবি করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চাওয়া কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০টি আসন। খেলাফত মজলিসের অপর অংশসহ অন্য শরিক দলগুলোর দাবিও যুক্ত হলে জামায়াতের জন্য নির্ধারিত আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। জামায়াত নিজে অন্তত দুইশ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী হওয়ায় এই সমীকরণে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে আট দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “জামায়াতের কাছে কোনো আসন নেই, আসন সবার। সবাই ছাড় দেবে, সবাই মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাব।”
তিনি আরও বলেন, এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি, ফলে পাওয়া বা না পাওয়ার প্রশ্নও আসেনি। সবকিছু সমঝোতার ভিত্তিতেই এগোচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারাও সম্মানজনক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সব দলের চাওয়া-পাওয়ার সমাধান করতেই দেরি হচ্ছে এবং শিগগিরই শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশা করছেন তারা।
অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং এখনো ঐক্য ভাঙার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না। কিছু জটিলতা থাকলেও সমঝোতার মাধ্যমেই তা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জামায়াতসহ সংশ্লিষ্ট ইসলামি দলগুলো এখনো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাওয়ার পথেই সমাধান খুঁজছে। তবে শেষ পর্যন্ত কতটা ছাড় দিয়ে সেই ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।