
যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ইরান। দেশটির সরকার দাবি করেছে, চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতেও তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ দেশীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরানের তেল বিক্রি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা অব্যাহত আছে।
তেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের জ্বালানি খাত পুরোপুরি স্থবির হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে বিক্রির পরিমাণ স্থিতিশীল রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, এই আয় থেকে একটি অংশ যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনর্গঠনে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাকনেজাদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বিক্রয় শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকায় ইরান এখনো বড় ক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারছে।
এর আগে গত মাসেও ইরানের তেলমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে, যার সুবিধা কিছু ক্ষেত্রে ইরান পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ইরান বিভিন্ন বিকল্প রপ্তানি চ্যানেল ব্যবহার করে তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে তারা বাজার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই তেল বিক্রির প্রবণতা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বড় কোনো উৎপাদনকারী দেশ যদি সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে তা সামগ্রিকভাবে দামের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
তবে একই সঙ্গে আশঙ্কাও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রপ্তানি চেইনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত থাকা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি যেমন দেশটির অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর, তেমনি বৈশ্বিক বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।