
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার ঠিক আগের রাত, ১১ ডিসেম্বর—শিক্ষা প্রশাসনের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক বদলি–পদায়নের সাক্ষী হয়েছে দেশ। ওই এক রাতেই শিক্ষা ক্যাডারের ৪৭৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়, যা অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘বদলির চাঁদরাত’ নামে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখার তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কলেজ শাখা থেকে পৃথক ১৬টি আদেশে এসব বদলি জারি হয়। এর মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন কলেজে ৩৮০ জন কর্মকর্তার বদলি হয়। পাশাপাশি মাউশি, শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল করা হয়।
একই দিনে আরও ২ হাজার ৭০৬ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯৯৫ জন সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক এবং ১ হাজার ৭১১ জন সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। এছাড়া ৯৪ জনকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়।
এই ব্যাপক বদলি ও পদোন্নতির নেপথ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ও একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক ও অধ্যক্ষ পদে বদলিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
বিশেষ করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) ঘিরে অভিযোগ আরও ঘনীভূত। সেখানে বদলি ও পদায়ন নিয়ে ঘুষ বাণিজ্য, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল এবং পূর্বে অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগের দুর্নীতির অভিযোগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও দপ্তরের নাম এসব অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ পর্যায়ের কেউ বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। কলেজ শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেছেন, বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ এবং যদি কোনো অনিয়ম বা বাণিজ্য হয়ে থাকে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এক রাতেই এত বিপুলসংখ্যক বদলি, পদোন্নতি ও পদায়ন—সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ‘বদলির চাঁদরাত’।