
নড়াইলের Narail Sadar Upazila-এ ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের তিন মাসের কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগে মা আরিফা বেগম (২১)-কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর এই আদেশ দেন বিচারক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর আমলি আদালতের বিচারক মো. মারুফ হাসান আসামি আরিফা বেগমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে নড়াইল জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিহত শিশুটির নাম তাবাসসুম। সে উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের আড়ংগাছা গ্রামের প্রবাসী মানিক চান মিয়ার কন্যা। ঘটনার পরপরই পুলিশ শিশুটির মাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাতে আরিফা বেগম তার শিশুকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমাতে যান। কিন্তু পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি নিজের কন্যাশিশুকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠান।
জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা বেগম যে তথ্য দিয়েছেন, তা আরও হৃদয়বিদারক। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্মের পর থেকেই শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত। শিশুটিকে সামলানোর দায়িত্ব প্রায় পুরোপুরি আরিফার ওপরই ছিল।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের কান্না এবং তা সামলানোর চাপে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনার দিন ভোরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এই ঘটনার পর এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এটি একটি অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনা, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পারিবারিক চাপ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সামাজিক সহায়তার অভাবের একটি ভয়াবহ উদাহরণ হতে পারে। বিশেষ করে নতুন মায়েদের জন্য মানসিক সহায়তা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নড়াইলের এই ঘটনা সমাজের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।