
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল তা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করে চলেছে বলে অভিযোগ করেছে গাজার সরকারি জনসংযোগ বিভাগ। সংস্থাটির বরাতে লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল মায়েদিন জানিয়েছে, গত ৭৩ দিনে ইসরায়েল অন্তত ৮৭৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪১১ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১১২ জন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এসব লঙ্ঘন চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবিক প্রটোকলের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ২৬৫টি সরাসরি গুলিবর্ষণ, আবাসিক এলাকায় ৪৯ বার সামরিক যান প্রবেশ, ফিলিস্তিনি ও তাদের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে ৪২১টি হামলা ও গোলাবর্ষণ এবং ১৫০টি বেসামরিক ভবন ও স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা। এ ছাড়া এই সময়ে ৪৫ জন ফিলিস্তিনিকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
মানবিক সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রেও ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত ৪৩ হাজার ৮০০টি সহায়তা ট্রাকের পরিবর্তে ওই সময়ে গাজায় প্রবেশ করেছে মাত্র ১৭ হাজার ৮১৯টি ট্রাক, যা মোট প্রতিশ্রুতির প্রায় ৪১ শতাংশ।
জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও চরম সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত ৩ হাজার ৬৫০টি ট্রাকের বদলে এসেছে মাত্র ৩৯৪টি, যা প্রায় ১০ শতাংশ। এর ফলে হাসপাতাল, বেকারি, পানি শোধনাগার এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ জরুরি সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ভেতরে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ১৩৯ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর পর থেকেই গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিমতীরে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দুই বছর ধরে চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ৯৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।