
২০২৪-২৫ করবর্ষের ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর থাকলেও তা বাড়ানোর জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, সময়সীমা আরও ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শেষ হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যে কোনো সময় আসতে পারে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি করবর্ষে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য নিবন্ধন করেছেন প্রায় ৪২ লাখ করদাতা। তবে এখন পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ২৬ লাখ। অর্থাৎ নিবন্ধিত করদাতাদের প্রায় ৩৮ শতাংশ এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি। গত বছর যেখানে মোট রিটার্ন জমা পড়েছিল প্রায় ৪৫ লাখ, সেখানে এবার সেই সংখ্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবধান পূরণ করা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শেষ সময়ে একসঙ্গে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে সার্ভার জটিলতা, ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় নতুন করদাতাদের অনভিজ্ঞতা এবং ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সময় বাড়ানোর দাবিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
রোববার এক আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। সময়ের অভাবে যদি বড় সংখ্যক করদাতা রিটার্ন দিতে না পারেন, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এনবিআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত শেষ সপ্তাহে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসে। সে অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের দুই-তিন দিন আগেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
তবে সময় বাড়ানো হবে—এই আশায় বসে না থেকে করদাতাদের দ্রুত অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দিলে জরিমানা, সুদ, কর রেয়াত হারানোসহ নানা আইনি ও নাগরিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।