
সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা কোনো রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতাই রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে এবং গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের ক্ষমতার মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতাকে ভারসাম্যে রাখা।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরাম আয়োজিত ‘বাণিজ্য সংলাপে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমীর খসরু জানান, জনগণের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই বিএনপি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়।
ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন বিভাগে এ ধরনের আলোচনা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই—ব্যবসায়ীরা যেন আর রাজনীতিবিদদের দ্বারে দ্বারে না ঘোরেন; বরং রাজনীতিবিদরাই তাদের কাছে গিয়ে কথা বলবেন। প্রচলিত এই নির্ভরশীলতার কাঠামো ভাঙতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
গণতন্ত্র কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে অর্থনীতি ও প্রশাসনেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সে জন্য তিনি ‘ডি-রেগুলেশন’ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেন এবং দুর্নীতিবাজদের হাতে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ধীরে ধীরে আমলাতন্ত্রের হাত থেকে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়া, সব পর্যায়ে অটোমেশন চালু এবং কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠনের কথাও বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে শুধু দল নয়, দেশও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। বহু নেতাকর্মী চাকরি ও ব্যবসা হারিয়েছেন, অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আগামী দিনের রাজনীতিতে দেশের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন পেছানোর আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, নির্বাচন বিলম্বিত হবে না। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে নির্বাচন পেছাতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না। নির্বাচন না হলে দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে বিএনপি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।