
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দেশের উচ্চ আদালত হাইকোর্ট-এ একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) জনস্বার্থে এই রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি, ঈমান, সাংবিধানিক অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠিত মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে।
আবেদনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের ডিনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী দাবি করেন, সরকার বিভিন্ন সময় জনমতের চাপে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করলেও পরে আবার পূর্বের নামেই তা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ অবস্থায় বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন বাঙালি ঐতিহ্য নয়। বরং ১৯৮৯ সালে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে এটি শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এটি একটি নবসৃষ্ট সাংস্কৃতিক আয়োজন, যা সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয়তা পেলেও ঐতিহ্যগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত পাখি, মাছ ও পশুর বড় বড় প্রতিকৃতি বহনের মাধ্যমে মঙ্গল বা কল্যাণ কামনা করা ইসলামী আকিদার পরিপন্থী বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, মুসলমানরা কেবলমাত্র আল্লাহর কাছেই কল্যাণ প্রার্থনা করতে পারে, অন্য কোনো প্রতীক বা উপস্থাপনার মাধ্যমে নয়।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত কিছু প্রতিকৃতি ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। এতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে এবং এর ফলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি দেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের ‘আইনের সুরক্ষা’ ও ‘জীবনের অধিকার’-এর পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিও এতে ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়া সংবিধানবিরোধী এবং এটি জনগণের ওপর একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার শামিল। ফলে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
রিটে পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন, প্রচার, অনুমোদন বা যেকোনো ধরনের কার্যক্রম থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে। আদালত রিটটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।