
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে শনিবার (৪ এপ্রিল) জানানো হয়েছে, ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার আলী আব্দোল্লাহি আক্রমণের জবাবে ‘নরকের দরজা খুলে যাবে’ বলে সতর্ক করেছেন।
এই ইউনিটটি ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পসের মধ্যে সমন্বয় করে থাকে। আব্দোল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হুমকি প্রদান করেছেন। তিনি এটিকে ‘আগ্রাসী ও যুদ্ধোন্মাদ’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যেকোনো হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর ‘ধ্বংসাত্মক ও ধারাবাহিক আঘাত’ হানা হবে।
বর্তমানে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ নামে একটি পাল্টা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আব্দোল্লাহি বলেন, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর কঠোর প্রভাব ফেলবে এবং তাদের সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের ক্ষতি ঘটাবে।
অন্যদিকে, পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে এপর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৬৫ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৪৭ জন আর্মি, ৬৩ জন নৌবাহিনী, ১৯ জন মেরিন কর্পস এবং ৩৬ জন বিমানবাহিনীর সদস্য। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, একই দিনে দুটি যুদ্ধবিমানের ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় হতাহতদের এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
ইরানি কমান্ডারের হুঁশিয়ারি ও চলমান সামরিক অভিযানের তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের সতর্কবার্তা এবং প্রতিশোধমূলক অভিযান অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।