
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি প্রণয়ন করেছে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী দেশের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আগে এই সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আজ রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রথমে অনলাইন ক্লাস এবং এক দিন সশরীরে ক্লাস চালানোর প্রস্তাবনা চলমান।
গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানো, শপিংমল সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করার এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলবে। জরুরি সেবা ব্যতীত সকল অফিস ভবন, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। এ উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস বিনা শুল্কে আমদানি করা যাবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, অনলাইন ক্লাস শুধুমাত্র মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কার্যকর হবে। তবে রবিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন সময়সূচি মূলত জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ও তেলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সময়সূচি সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নতুন সময়সূচি সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বাভাবিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনবে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ও সশরীর ক্লাসের সংমিশ্রণ কৌশল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মোটকথা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে দেশের অফিস, ব্যাংক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চূড়ান্ত সময়সূচি আজ জানানো হবে।