
রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মো. আশরাদুল (১৩) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে গেন্ডারিয়া রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাদুল কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড় ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জগামী একটি চলন্ত ট্রেনের ছাদে বসে যাত্রা করছিল আশরাদুল। এ সময় অসাবধানতাবশত ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যায় সে। পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হলে ঘটনাস্থলেই তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে পড়ে।
ট্রেনে থাকা এক যাত্রী মো. ইউসুফ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর প্রথমে কেউ এগিয়ে আসছিল না। পরে তিনি এবং কয়েকজন মিলে আহত অবস্থায় আশরাদুলকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি আবারও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির সময় অতিরিক্ত যাত্রী চাপের কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করেন। কিন্তু এ ধরনের যাত্রা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনাটি তার একটি দুঃখজনক উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনের ছাদে যাতায়াত সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সামান্য অসাবধানতা কিংবা হঠাৎ ধাক্কায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া বৈদ্যুতিক তার, সেতু বা অন্য কোনো কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা লাগার আশঙ্কাও থাকে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্কতা জারি করলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় চাপ—এই দুই কারণেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে যাত্রীদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা—অল্প অসাবধানতা ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কিভাবে একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, সেটিই আবারও প্রমাণ হলো।