
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার তাপস ব্যানার্জি-এর বাড়িতেই আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুনের মূল কারণ ছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট।
ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুনের লেলিহান শিখায় একাধিক বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্রও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরে থাকা ভাড়াটিয়ার কয়েকটি পরিবার অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা অনুমান করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ও স্থানীয়রা প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কেন্দুয়া ফায়ার সার্ভিস অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো: কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে অর্ধপাকা একাধিক ঘর আগুনে পুড়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় একজন সাংবাদিকসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক সালমান আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস কর্মী আজিজুল হক, পৌরসভার কান্দউড়া গ্রামের সুমন খান এবং চিরাং মোড়ের টিভি মেকানিক সজল। আহত সাংবাদিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।
বাড়ির মালিক তাপস ব্যানার্জি ফোনে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকি না। আধাপাকা এই ঘরগুলো ভাড়া দেওয়া ছিল। আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই হয়েছে বলে আমার ধারণা।” তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিসের দল প্রানপণ চেষ্টা করে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ এবং তাদের সহযোগিতায় আরও বড় ধরণের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলেন, এই ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি এবং সচেতনতার প্রয়োজন।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী আজিজুল হক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব তৈরি করেছে এবং আহতদের সহায়তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও উন্নত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কেন্দুয়া পৌরসভা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত চারজনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্থানীয় হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই দুর্ঘটনা একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে এলাকায় দেখা দিচ্ছে যে, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা না থাকলে দ্রুত বিস্তৃত ক্ষতি হতে পারে।