
দেশের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুরুতে সীমিত পরিসরে হলেও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তী কয়েক দিনে দেশের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে চলমান তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হওয়ার আভাসও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি কিছুটা সময় অব্যাহত থাকলেও রোববার থেকে এর তীব্রতা কমতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে দেশের আবহাওয়ায় আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এদিন রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে আবহাওয়াকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
মঙ্গলবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিভাগের দু-একটি স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, বুধবারের আবহাওয়ার চিত্রেও বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে। এই দুটি প্রভাব মিলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, যার ফলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, শুরুতে সীমিত আকারে বৃষ্টিপাত হলেও ধীরে ধীরে এর বিস্তার বাড়তে পারে এবং সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।