
দেশজুড়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে একটি আট শয্যার হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, যা বর্তমানে রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিএমইউ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাসপাতালের সি ব্লকের দ্বিতীয় তলায় এই বিশেষ ওয়ার্ডটি চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট এই ওয়ার্ডে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এর পরিসর আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এই ওয়ার্ডে চারজন রোগী ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দ্রুত অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হবে।
হাম রোগ দ্রুত শনাক্ত করার জন্য একটি বিশেষ স্ক্রিনিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। এই সেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বহির্বিভাগের ২ নম্বর ইউনিটেও একটি স্ক্রিনিং সেন্টার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপদ ও আলাদা পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আইসোলেশন ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এফ ব্লকের দ্বিতীয় তলায় একটি সম্প্রসারিত আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে সহায়ক হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল রোগীর সংখ্যা, সংক্রমণের ধরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
সম্প্রতি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান এবং উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু নাছেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন চালু হওয়া হাম ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা চিকিৎসা ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিতকরণের বিষয়গুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মৌসুমি সংক্রমণ এবং জনসচেতনতার অভাবের কারণে হাম রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এ কারণে হাসপাতাল পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএমইউর এই উদ্যোগ আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, হাম মোকাবিলায় বিএমইউর এই পদক্ষেপ দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।