
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় একটি জুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পূর্ব লামাপাড়া এলাকার পিঠালীপুল এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ জুট, কাপড়, পলিথিন, কাগজ ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী আগুনে পুড়ে যায়। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পর স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে।
প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। এ সময় আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
গোডাউনটির মালিক মো. রানা মিয়া জানান, আগুনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগার সময় গোডাউনে থাকা দাহ্য উপকরণগুলো দ্রুত জ্বলে ওঠায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা নুরুল আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প এলাকা ও গুদামগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণে সতর্কতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জের এই অগ্নিকাণ্ড আবারও শিল্প ও গুদাম নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।