
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা-তে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা সংঘর্ষে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ভাঙ্গা থানার পুলিশ সদস্য মশিউর রহমানও রয়েছেন। তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া নারীসহ বিভিন্ন বয়সী আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২৮ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। আরও অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মুনসুরাবাদ, সিঙ্গারিয়া, খাপুরা, মাঝিকান্দা ও চর পাল্লা গ্রামের বাসিন্দারা রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে একটি ফুটবল খেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মুনসুরাবাদ গ্রামের এক কিশোরের মাইকিংকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের কিছু ব্যক্তি তাকে লাঞ্ছিত করে। এর জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় এবং শনিবার সকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং একাধিক দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর সংঘর্ষ থামে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া জানান, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আগে থেকেই ছিল, যা সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় রূপ নেয়।
এদিকে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক বিরোধ প্রায়ই বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসব ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।