
দেশে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন করে আটটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ফেনী জেলা সদরে একটি নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংস্থানের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রস্তুতি নিশ্চিত না করে কোনো নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে তা কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা বিবেচনায় রেখে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবগুলো ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বর্তমানে যে আটটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, নাটোর ও নরসিংদীতে একটি করে এবং ভোলা, শেরপুর ও লক্ষ্মীপুরে একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল থাকা জরুরি, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে এবং রোগীরা উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারে। ফলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অর্থ বিনিয়োগ প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফেনী জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রস্তাবাধীন প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে যাওয়ার পর এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে প্রস্তাবিত আটটি মেডিকেল কলেজের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ঢাকার নিকটবর্তী এই জেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এই ধরনের নতুন প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের এই পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, যা চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।