
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশ-এ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সংঘটিত এই হামলায় একাধিক শিল্প এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশের রাজধানী আহভাজ-এর পূর্ব ও পশ্চিম অংশে প্রথমে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যদিও শুরুতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এরপর মাহশাহর বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চল-এ আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এই শিল্পাঞ্চলটি ইরানের তেল ও গ্যাসভিত্তিক রাসায়নিক উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ফজর-১, ফজর-২, রেজাল এবং আমির কবিরসহ একাধিক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা দেশের জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়াও সকাল ১১টার দিকে খোররামশাহর শালামচেহ সীমান্ত টার্মিনাল এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বন্দর-ই ইমাম খোমেনি এলাকার আবু আলি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও হামলা চালায় বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাহশাহর এবং বন্দর-ই ইমাম খোমেনি এলাকায় হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ অর্থনৈতিক পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমান্ড কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সক্রিয় শিল্প ইউনিটগুলো থেকে সব কর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্গমন এখন পর্যন্ত নিকটবর্তী শহরগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করেনি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা দেশটির অর্থনীতি ও শিল্প খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, খুজেস্তানের এই হামলা শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।