
রাজধানীতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পেট্রোল পাম্পগুলোতে। ছুটির দিনেও তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে নগরবাসীকে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর থেকেই বিভিন্ন পাম্পে গাড়ির সারি বাড়তে থাকে, যা দিনের সঙ্গে সঙ্গে আরও দীর্ঘ হয়।
অনেক পাম্পে তেলের সরবরাহ না থাকায়, যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে এক পাম্পের গ্রাহক অন্য পাম্পে ছুটে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এতে করে তেল নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ ধীরগতিতে করা হচ্ছে, যার কারণে লাইনের দৈর্ঘ্য দ্রুত কমছে না। অনেক ক্ষেত্রে এক থেকে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পর তেল পাওয়া যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিক্ষার্থী রফিক বলেন, ক্লাস ফেলে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, সাজ্জাদ নামের এক রাইডার জানান, তার মোটরসাইকেলের ট্যাংকে তেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগোতে হয়েছে তাকে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং সময় নষ্ট হচ্ছে।
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি দায়ী নয়। তাদের দাবি, সব পাম্পে তেল না থাকায় নির্দিষ্ট কিছু পাম্পে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গ্রাহক একসঙ্গে তেল নিতে আসছেন।
এক পাম্পকর্মী জানান, আগে যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহক আসতেন, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ আসছেন। এ কারণে তেল সরবরাহে সময় বেশি লাগছে। তবে গ্রাহকরা তেল পেলেই কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি অফিসের সময়সূচি কমানো, সন্ধ্যার পর মার্কেট ও দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং সরবরাহের ওপর চাপ হ্রাস করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জনজীবনে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পরিবহন খাত এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, রাজধানীতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন এখন একটি সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।