
অস্ট্রেলিয়া তাদের ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেও স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে এখনো দীর্ঘসূত্রতা রয়ে গেছে। দেশটির Department of Home Affairs গত ২৩ মার্চ প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, অস্থায়ী ভিসা—বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ভিসা গড়ে ৩৩ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভিজিটর ভিসার বেশিরভাগ আবেদন এক দিনেরও কম সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে, যা আবেদনকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় নির্ভর করে আবেদনপত্রের পূর্ণতা, অতিরিক্ত তথ্যের দ্রুত জবাব দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চরিত্র যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর। অর্থাৎ, আবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত না হলে সময় বাড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
এছাড়া অস্থায়ী দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রেও কিছুটা সময় লাগছে। গড়ে এই ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৮৭ দিন সময় প্রয়োজন হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলেছে, অসম্পূর্ণ আবেদন জমা দিলে প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে।
এ অবস্থায় আগেভাগে আবেদন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে বিদেশ থেকে জমা দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন বিভিন্ন নীতিমালার আওতায় যাচাই করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তাই কোর্স শুরুর অনেক আগে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনো ধীরগতির। দক্ষ কর্মী স্থায়ী ভিসা পেতে গড়ে প্রায় ৯ মাস সময় লাগছে। আরও বেশি সময় লাগছে পার্টনার ভিসায়—যেখানে আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ১৭ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সরকারি অগ্রাধিকারভিত্তিক নীতির কারণে এসব ভিসার প্রক্রিয়ায় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকায় নিয়োগদাতার মাধ্যমে আবেদনকারী এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে কর্মরতদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে অন্যান্য আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় এবং আবেদনকারীর অবস্থান, কেসের জটিলতা ও যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে সময় ভিন্ন হতে পারে।
সবশেষে কর্তৃপক্ষ আবারও জোর দিয়ে বলেছে, সম্পূর্ণ তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই আবেদনকারীদের সচেতন ও প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।