
চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা Artemis 2 মিশনের নভোচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর অসাধারণ কিছু ছবি তুলেছেন, যা ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে NASA। এই হাই-রেজ্যুলেশন ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে এবং মহাকাশ থেকে আমাদের গ্রহের সৌন্দর্য নতুন করে তুলে ধরেছে।
মিশনের কমান্ডার Reid Wiseman এসব ছবি ধারণ করেন। ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি ছবির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hello, World’। এতে আটলান্টিক মহাসাগরের বিশাল নীল বিস্তার, পৃথিবীর চারপাশে পাতলা বায়ুমণ্ডলের আলোকচ্ছটা এবং সূর্যের আলো আড়াল হওয়ার কারণে তৈরি হওয়া অনন্য দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
ছবিগুলোতে পৃথিবীর দুই মেরুতেই সবুজ অরোরা বা মেরুজ্যোতির ঝলকও দেখা গেছে, যা মহাকাশ থেকে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করেছে। একটি ছবিতে পৃথিবীকে কিছুটা উল্টো দেখা যায়—বাম পাশে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরিয়ান উপদ্বীপ এবং ডান পাশে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ দৃশ্যমান।
আরও একটি আকর্ষণীয় তথ্য হলো, ছবির এক কোণে উজ্জ্বল একটি গ্রহ দেখা গেছে, যা হলো Venus বা শুক্র গ্রহ।
এই ছবিগুলো তোলা হয় মহাকাশযানের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন’ (TLI) সম্পন্ন হওয়ার পর। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে Orion spacecraft পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে চারজন নভোচারী চাঁদের দিকে প্রায় ২ লাখ মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
একটি ছবিতে পৃথিবীকে দিন ও রাতের দুই ভাগে বিভক্ত অবস্থায় দেখা যায়। আলো ও অন্ধকারের এই সীমারেখাকে বলা হয় ‘টার্মিনেটর’, যা মহাকাশ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আরেকটি ছবিতে পৃথিবীর রাতের অংশে মানুষের তৈরি আলোর ঝলক দেখা যায়, যা মানব সভ্যতার উপস্থিতি বোঝায়।
মিশনের সময় নভোচারীরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্যগুলো উপভোগ করেন এবং ছবি তোলেন। মিশন স্পেশালিস্ট Jeremy Hansen জানান, তারা চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর অন্ধকার পাশের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৭২ সালের Apollo 17 মিশনের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে গিয়েছে। সেই সময় তোলা বিখ্যাত ছবির সঙ্গে ২০২৬ সালের এই ছবিগুলোর তুলনাও প্রকাশ করেছে নাসা।
নাসা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ৫৪ বছরে প্রযুক্তিতে ব্যাপক অগ্রগতি হলেও একটি বিষয় অপরিবর্তিত রয়েছে—মহাকাশ থেকে পৃথিবী এখনো সমানভাবে সুন্দর।
এই মিশনের নভোচারীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী চাঁদের দূরের প্রান্ত ঘুরে ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এই যাত্রা শুধু বৈজ্ঞানিক দিক থেকে নয়, বরং মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।