
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, আলোচনায় বর্তমানে রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলোই প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে এমবার্কেশন ফি, অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। সে লক্ষ্যে বারবার আলোচনায় বসা হচ্ছে এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে।
এই তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় সম্পন্ন হওয়া এই টার্মিনাল দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে সরকার উচ্চপর্যায়ে ধারাবাহিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৈঠকে জাপানি পক্ষের সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
জাপানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো। উভয় পক্ষই অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের মাধ্যমে একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন গতি আসবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।