
একসময় যাদের ঘিরে রাজকীয় রূপকথার গল্প বলা হতো, সেই প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস কেট মিডলটনকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে আলোচিত এই দম্পতির সম্পর্ক কি আগের মতো আছে—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজকীয় পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।
রাজকীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, উইলিয়াম ও কেটের একসঙ্গে উপস্থিতি আগের তুলনায় কম। একসময় যেখানে ক্যামেরার সামনে তাদের হাসি, ঘনিষ্ঠতা ও স্বাভাবিক আন্তরিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো, সেখানে এখন অনেক অনুষ্ঠানে আলাদা আলাদা উপস্থিতি কিংবা সীমিত যোগাযোগ দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনই নতুন করে গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।
রাজপ্রাসাদ–ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আলোচনায় এসেছে, রাজকীয় দায়িত্বের বাড়তি চাপ, ব্যক্তিগত পরিসরের পরিবর্তন এবং কিছু স্পর্শকাতর বিষয় তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। গুঞ্জনকারীদের একাংশের দাবি, সম্পর্কটি এখন আবেগনির্ভরতার চেয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্যকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।
তবে এ ধরনের আলোচনার বিপরীতে বিশ্লেষকদের আরেক অংশ মনে করছেন, এটি বিচ্ছেদ বা বড় কোনো সংকটের ইঙ্গিত নয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়, বিশেষ করে যখন রাজকীয় দায়িত্ব ও জনসমক্ষে থাকার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তারা এটিকে এক ধরনের “ঠান্ডা সম্পর্ক” হিসেবে দেখছেন, যেখানে আবেগ প্রকাশ কম হলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, একসময়কার আলোচিত “পারফেক্ট কাপল” উইলিয়াম–কেটকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই দূরত্ব আদৌ স্থায়ী নাকি সাময়িক—তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলের এই পরিবর্তন ঘিরে জনমনে আগ্রহ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।