
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন সাবেক পুলিশপ্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি এ মামলার তৃতীয় আসামি এবং একই সঙ্গে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত ১৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে আপিল দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দণ্ডিত মামুনের মামাতো ভাই সামশুল আবেদীন। তিনি জানান, অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আপিল করা হয়েছে এবং এতে পাঁচ বছরের সাজা বাতিল করে খালাস চাওয়া হয়েছে।
তবে আপিলের পক্ষে এখনো কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। আপিলে কী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামশুল আবেদীন বলেন, আইনি বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং শুধু এটুকুই বলতে পারেন যে, আপিলের মূল উদ্দেশ্য খালাস পাওয়া।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো রায়ের বিরুদ্ধে খালাস বা দণ্ড ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। একই আইনের ২১(৪) উপধারায় উল্লেখ আছে, আপিল দায়েরের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
আইন অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর ছিল আপিল দায়েরের শেষ দিন। যদিও মামলার অপর দুই আসামি—মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আপিল করেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।